দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেটের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৫৮৪ কোটি ১৬ লাখ ৫ হাজার ৯৫২ টাকা। অন্যদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে সাশ্রয়ী দামে বিক্রি করার জন্য প্রতি লিটার ১৬১ টাকা দরে পরিশোধিত রাইস ব্র্যান বা কুঁড়ার তেল কেনা হচ্ছে। এ দফায় স্থানীয় চার প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হবে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার তেল। এ তেল কিনতে মোট ব্যয় হবে ১৭৭ কোটি টাকা।
সচিবালয়ে গতকাল সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের ১৯তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় এলএনজি ও রাইস ব্র্যান তেল ক্রয়সহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮’ অনুসারে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেটের সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৫৮৪ কোটি ১৬ লাখ ৫ হাজার ৯৫২ টাকা।
এর আগে গত ৭ মে সিঙ্গাপুর থেকে আরো দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয় সরকার, যার মোট ব্যয় ছিল ১ হাজার ১০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া গত ২৯ এপ্রিল আরো তিন কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।
এদিকে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ১৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকায় স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ১ কোটি ১০ লাখ লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল কিনবে। এজন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে চারটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। প্রতিটি দরপ্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।
জানা গেছে, মজুমদার প্রডাক্ট লিমিটেড (ঢাকা) ৫০ লাখ লিটার, তামিম এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (ঢাকা) ২০ লাখ লিটার, প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড (গাইবান্ধা) ২০ লাখ লিটার এবং গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ (ঢাকা) ২০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল সরবরাহ করবে।
এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডব্লিউএম) প্রকল্প (বিডব্লিউডিবি অংশ)’ শীর্ষক প্রকল্পে ছয়টি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবও সভায় অনুমোদন করা হয়েছে।